৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

aamra
Comments Off on ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
  • ২নং সেক্টরে পাকসেনাদের একটি শক্তিশালী দল লঞ্চে মাদারীপুরের দিকে তৎপরতা আরো বাড়ানোর জন্য অগ্রসর হয়। এই খবর পেয়ে মুক্তিবাহিনীর ২০ জনের একটি গেরিলা দল পালং থানার রাজগঞ্জের কাছে নদীর পাড়ে অ্যামবুশ পাতে। সকাল ১০ টায় লঞ্চটি অ্যামবুশের আওতায় এলে গেরিলারা পাকসেনাদের ওপর তীব্র আক্রমণ চালায়। শেষে উপায়ন্তর না দেখে পাকসেনারা লঞ্চে করে পালিয়ে যায়। এই সংঘর্ষে ১২ জন পাকসেনা নিহত ও অনেক আহত হয়।
  • সিলেটে পাকহানাদার বাহিনী ভোগা ও করমপুর গ্রামে মুক্তিবাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যুহ্যের ওপর তীব্র হামলা চালায়। মুক্তিযোদ্ধারা পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে পাকবাহিনীর ৩ জন সৈন্য ও ৪ জন রাজাকার নিহত হয়।
  • ৭নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনী পাকহানাদার বাহিনীর প্রেমতলী অবস্থানের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে ২ জন পাকসৈন্য ও ২ জন রাজাকার নিহত হয় এবং ৭ জন আহত হয়।
  • চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজ শেষে কয়েকজন পাকসেনা অফিসার হেঁটে যাওয়ার সময় পোলো গ্রাউন্ডের প্রবেশ মুখে এম.এ. জিন্নাহর মুক্তিযোদ্ধা দল তাদের ওপর গ্রেনেড আক্রমণ চালায়। এতে ৩ জন পাকসেনা অফিসার নিহত হয়।
  • ফেনীতে মুক্তিবাহিনী পাকবাহিনীর দুই প্লাটুন সৈন্যকে সিলোনিয়া নদী অতিক্রমের সময় আক্রমণ করে। এতে পাকবাহিনীর ১৫ জন সৈন্য নিহত হয়। বাকী সৈন্যরা মর্টারের শেলবর্ষণ করার মাধ্যমে নিজেদের বাঁচিয়ে পালিয়ে যায়।
  • ৬নং সেক্টরে লে. কর্নেল দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ৩০ জনের একটি মুক্তিযোদ্ধা দল মোগলহাট রেল লাইনের ওপর অ্যান্টি ট্যাংক মাইন, গ্যালাটিন ও পি.ই.কে বসিয়ে অবস্থান নেয়। পাকসেনা বোঝাই একটি ট্রেন অগ্রসর হলে মাইনের আঘাতে ইঞ্জিনসহ সামনের কযেকটি বগী বিধ্বস্ত হয়। পাকসেনারা সঙ্গে সঙ্গে মক্তিযোদ্ধাদের তিনদিক থেকে ঘিরে ফেললে মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটে। এই সংঘর্ষে পাকবাহিনীর ৫ জন সৈন্য নিহত ও অনেক আহত হয়। অপরদিকে ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ও লে. কর্নেল দেলোয়ার হোসেনসহ ৪ জন যোদ্ধা আহত হয়।
  • ঢাকায় সামরিক আদালত ৪৮ জন প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যকে সামরিক আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দেয়।
  • সিলেটে শান্তি কমিটির আহবায়ক শহীদ আলীর সভাপতিত্বে এক সভায় ব্রিগেডিয়ার ইখতেখার আহম্মদ রানা প্রশংসনীয় কাজের জন্য রাজাকার সদস্য আদম মিয়া, ওসমান গনি ও আবদুর রহমানকে টিক্কা কানের দেয়া পদক ও প্রশংসাপত্র প্রদান করে। সভায় নিহত দালাল তালাতের নামে হরিপুরের নামকরণ করা হয় ‘তালাতনগর’।