২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

aamra
Comments Off on ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
  • ২নং সেক্টরে ২৫০ সদস্যবিশিষ্ট পাকসেনা ও রাজাকারদের একটি দল রামগঞ্জ বাজারের দিকে অগ্রসর হয়। এই খবর পেয়ে মুক্তিবাহিনীর ৫০ জন যোদ্ধার একটি দল রামগঞ্জ বাজারের পূর্বদিকে পাকসেনাদের জন্য অ্যামবুশ পাতে। পাকসেনা ও রাজাকারের দল অগ্রসর হবার পথে অ্যামবুশের আওতায় এলে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে ২০ জন পাকসেনা ও রাজাকার নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়।
  • ৪নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর ৬০ জন যোদ্ধার একটি দল কুমারসাইলে পাকসেনাদের বিরুদ্ধে এক অভিযান চালায়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে আড়াই ঘণ্টা গোলা বিনিময় হয়। এই সংঘর্ষে পাকবাহিনীর ৯জন সেন্য নিহত ও কয়েকজন আহত হয়।
  • ৫নং সেক্টরের তামাবিল সাব-সেক্টর ব্রেভো কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে মো. রফিকুল আলম কোম্পানির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
  • ৮নং সেক্টরের বানপুর সাব-সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর এক প্লাটুন যোদ্ধা পাকবাহিনীর ওপর দত্তনগর ঘাঁটি আক্রমণ করে। এই সংঘর্ষে পাকবাহিনীর ২জন সৈন্য নিহত ও ২ জন আহত হয়।
  • ঢাকার গোপীবাগে শহর মুসলিম লীগ সভাপতি মোহাম্মদ হোসেনের বাসভবনে মুক্তবাহিনীর গেরিলা যোদ্ধারা আক্রমণ চালায়। এতে পাহারাদারদের সাথে গেরিলাদের প্রচণ্ড গুলি বিনিময় হয়। তবে কোন হতাহত হয়নি।
  • মুক্তিবাহিনী গোপালগঞ্জ মহকুমার রায়চন্দ্রপুর মধুমতী নদীতে পাকিস্তানিদের খাদ্য ও অস্ত্র বোঝাই ৪টি নৌকার ওপর দুঃসাহসিক অভিযান চালায়। এই অভিযানে পাকবাহিনীর দুটি নৌকা ডুবে যায় এবং ১৫ জন রাজাকার ও ২ জন পাঞ্জাবী পুলিশ নিহত হয়।
  • রাজশাহী সীমান্তে মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি দলকে অতর্কিতে আক্রমণ করে। এই আক্রমণে পাকসেনা দলের সকল সদস্য নিহত হয়।
  • গভর্নর ডা. এ.এম. মালিক মুক্তিযুদ্ধবিরোধী প্রচারণা চালানোর উদ্দেশ্যে রেডিও পাকিস্তানে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গভর্নর ছাত্রদের কোন ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে অংশ না নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান।
  • জামায়াতে ইসলামীর একটি দল লন্ডন সফর করে। লন্ডনে এক সভায় সফরকারী জামায়াতে নেতা মওলানা খলিল বলেন, পৃথিবীর কোন শক্তি নেই পাকিস্তানকে বিভক্ত করে।
    অপর নেতা মওলানা হামিদী স্বাধীনতা সংগ্রামকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, তথাকথিত বাংলাদেশের কোন অস্তিত্ব নেই।